আমরা এখন নিয়মিত কম্পিউটার, ট্যাব বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছি। এ ডিভাইস গুলো আমাদের জন্য, আমাদের কাজের জন্য অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ আর তাই এদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও খুব বেশী গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

আজ আমরা কথা বলবো,

  • কম্পিউটার ভাইরাস কি?
  • কম্পিউটার ভাইরাস কিভাবে আক্রমণ করতে পারে?
  • ফোন বা কম্পিউটার এর মতো ডিভাইস গুলোতে কি ধরনের ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে?
  • ভাইরাস গুলো ঠিক কি কি ক্ষতি করে?
  • কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কি-না কিভাবে বুঝবেন?
  • আর সাথে সাথে সে ভাইরাস থেকে রক্ষা পাবার উপায় গুলো কি হতে পারে?

এ প্রসঙ্গে।

কম্পিউটার ভাইরাস

 

কম্পিউটার ভাইরাস কি?

কম্পিউটার ভাইরাস হচ্ছে এমন কিছু কোড দিয়ে তৈরী প্রোগ্রাম যা, কম্পিউটারকে তার সাধারণ কাজগুলো করতে বাধা দেয়।

১৯৮৬ সালে প্রথম ব্রেইন নামে কম্পিউটার ভাইরাস তৈরী করা হয়। যা MS-DOS কে আক্রমণ করতো।

এখন বর্তমানে অনেক বেশি উন্নত কোডিং এর মাধ্যমে কম্পিউটার ভাইরাস তৈরী করা হয়ে থাকে যা নিমিষেই আমাদের কম্পিউটারের তথ্য চুরি, তথ্য রিপ্লেসমেন্ট বা ডিলেট করে দিতে পারে।

তাই আগে থেকেই সতর্ক হয়ে প্রয়োজনীয় ও জরুরী পদক্ষেপ না নিলে পরবর্তীতে ভোগান্তির সীমা থাকবে না।

কম্পিউটার ভাইরাস কিভাবে আক্রমণ করে?

বর্তমান সময়ে ভাইরাস গুলোকে অত্যাধিক শক্তিশালী করে তৈরী করা হয়। যে গুলো নানা পদ্ধতিতে আমাদের মোবাইল, ট্যাব বা পিসির মতো আধুনিক ডিভাইস গুলোতে ঢুকে যেতে পারে।

এ ডিভাইস গুলোতে ভাইরাস প্রবেশ করার অনেক গুলো রাস্তা রয়েছে।

  • ভাইরাস সংক্রমিত কোন কিছু ব্যবহার করলে-

আমরা অনেক সময় বিভিন্ন কাজে কম্পিউটারে পেনড্রাইভ, এক্সটার্নাল হার্ডড্রাইভ বা সিডি, ডিভিডি ডিস্ক ইউজ করে থাকি।

এগুলো তে যদি আগে থেকেই কোন ভাইরাস আক্রমণ করে থাকে, তাহলে কিন্তু সে ভাইরাস আপনার কম্পিউটারে চলে আসতে পারে।

মনে করুন, আপনি আপনার বন্ধুর কম্পিউটার থেকে কোন বড় ফাইল নিতে চাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে খুব সম্ভাবনা থাকে আপনি আপনার পেনড্রাইভ ইউজ করবেন। এখন আপনার বন্ধুর কম্পিউটার টি যদি ভাইরাসে আক্রান্ত থাকে, তাহলে ফাইল ট্রান্সফারের সময় অটোমেটিক সে ভাইরাস পেনড্রাইভের মাধ্যমে আপনার পিসিতে চলে আসবে। আপনি বুঝতেও পারবেন না।

তাই কোন ফাইল ট্রান্সফারের সময় পেনড্রাইভ হোক, সিডি, ডিভিডি বা এক্সটার্নাল কোন হার্ডডিস্ক হোক কম্পিউটারে প্রবেশ করানোর আগে অবশ্যই মনে করে ভাইরাস আছে কি না চেক করে নিবেন।

যদি ভাইরাস থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকে, তাহলেই কেবল তা আপনার কম্পিউটারে সংযুক্ত করবেন অন্যথায় কখনোই নয়।

  • অনিরাপদ কোন ওয়েবসাইট এ প্রবেশ করলে-

আমরা আমাদের নানা কাজে নানা রকম ওয়েবসাইট এ প্রায় ই যেতে হয়। কোন কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার সাথে সাথে ছোট ছোট কিছু ফাইল আমাদের ডিভাইসে ডাউনলোড হয়ে যায়।

যে সম্পর্কে আমরা একেবারে ই গুরুত্ব দেই না।

অথচ এ সকল ওয়েবসাইট গুলো মোটেই নিরাপদ নয়। অটোমেটিক ভাবে ডাউনলোড হওয়া সে ফাইল গুলোতে ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয়া হয়।

সে ফাইল গুলো আমাদের মূল স্টোরেজ এ ঢুকে হার্ডডিস্ক ক্র‍্যাশ করে দিতে পারে।

অনেক সময় গুগল নিজেই জানিয়ে দেয় যে, ওয়েবসাইট এ ভাইরাস থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমরা আর ঐ ওয়েবসাইট এ ঢুকবো না।

আর যে ওয়েবসাইট গুলো অটোমেটিক ফাইল ডাউনলোড করে দেয়, ওগুলো থেকে দূরে থাকবো।

  • ই-মেইল এর মাধ্যমে ভাইরাস

ইমেইল এর মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে দেবার বিষয়টি হ্যাকারদের মাঝে অনেক জনপ্রিয়। এ ক্ষেত্রে হ্যাকার ই-মেইলে কিছু গুপনীয় মালওয়্যার ঢুকিয়ে দেয় ও আপনার কাছে পাঠিয়ে দেয়।

ব্যবহারকারী যখন ই সে মেইল খুলে বা মেইল এ থাকা কোন ফাইল ডাউনলোড করে, সে ভাইরাস টি আপনার ফোন বা পিসিতে যুক্ত হয়ে যায়।

অনেক সময় এটা অটোমেটিক ভাবে স্প্যাম হিসেবে ধরা পরে, ও ইনবক্সে না এসে স্প্যাম ফোল্ডারে থাকে। ভাইরাস টি বেশী মাত্রায় শক্তিশালী হলে না ও ধরা পরতে পারে।

ইমেইল ভাইরাস থেকে বাঁচতে আপনার উচিত হবে, অপরিচিত কেউ কোন কিছুর লিনক দিলে বা ফাইল ডাউনলোড করতে বললে তা এড়িয়ে যাওয়া।

অপরিচিত কোন ইমেইল ওপেন করার আগে প্রেরক আইডি যাচাই করে নিবেন।

তাহলেই ইমেইল ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে।

কয়েকটি ভয়ংকর ভাইরাস ও সেগুলোর ক্ষতির ধরন-

  • ক্রিপ্টোলকার

ক্রিপ্টোলকার নামের এ কম্পিউটার ভাইরাস টি ২০১৩ সালে আবিষ্কৃত হয়। এ Virus টি হার্ডড্রাইভে প্রবেশ করে সমস্ত ফাইল গুলোকে এনক্রিপ্ট করে দেয়।

আর এর ডিক্রিপশন কি পাঠিয়ে দেয় হ্যাকারের কাছে। যে ডিক্রিপশন কি ছাড়া সে ফাইলগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পরে।

এ ভয়ংকর ভাইরাস টি ছড়িয়ে দিয়ে হ্যাকার মোটা অংকের টাকা দাবি করে বসে। ও মুক্তিপণ আদায় করে।

  • স্ল্যামার-

এ Virus টি কোন কম্পিউটারে আক্রমন করলে প্রতি ৮.৫ সেকেন্ডে তা দ্বিগুন হারে নিজেকে বৃদ্ধি করতে থাকে।

২০০৩ সালে তৈরী হওয়া এ কম্পিউটার ভাইরাস টি নাজেহাল করে দিয়েছিল ব্যাংক অফ আমেরিকার একটি এটিএম বুথ। বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিল ওয়াহিওর একটি পরামানিক কেন্দ্র কে।

  • মাইডুম-

মাইডুম নামের এ ভাইরাস টি অনেক বেশি ভয়াবহ।

এটি ইমেইল এর মাধ্যমে কম্পিউটারে ঢুকে, গুপনীয় তথ্যসহ ব্যাক্তির সকল তথ্য চুরি করে ও হ্যাকার কে প্রদান করে।

যে তথ্য পাব্লিশ না করার শর্তে হ্যাকার টাকা দাবী করে থাকে।

কম্পিউটার ভাইরাস

কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত কি না যেভাবে বুঝতে পারবেন-

কম্পিউটার যদি ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হয়, তাহলে অনেকগুলো ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়।

  • আপনার কম্পিউটারের ডেস্ক স্পেস হঠাৎ খুব বেশী কমে যেতে পারে বা বেড়ে যেতে পারে।
  • কম্পিউটার চালানোর সময় এর স্পীড অনেক কমে যাবে।
  • প্রোগ্রাম রান ( সফটওয়্যার/গেম) চালু হতে অতিরিক্ত সময় নেয়।
  • মাঝে মাঝে ই কম্পিউটার টি হ্যাং হয়ে যেতে পারে বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
  • অদ্ভুত কিছু মেসেজ, এরর স্ক্রীন বা মুক্তিপণ দাবীর কোন মেসেজ দেখাতে পারে।
  • অতিরিক্ত বা নিখোঁজ ফাইল।
  • সিস্টেম ক্র‍্যাশ।

কম্পিউটার ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায়-

লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেম ইউজ করা :

আপনি যে অপারেটিং সিস্টেম ই ইউজ করেন না কেন, তা নিয়মিত আপডেট করুন।

ভালো এন্টিভাইরাস ব্যবহার করা :

কম্পিউটার এক্সপার্ট অনেকে মনে করেন উইন্ডোজ 10 এর সাথে ডিফল্ট ভাবে দেয়া উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ই কম্পিউটার কে সকল প্রকার ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখতে পারে।

তারপরেও অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য আপনি ভালো দেখে একটি এন্টিভাইরাস ব্যবহার করতে পারেন।

তাহলে আপনার পিসি ও আপনার তথ্য অধিক নিরাপত্তার সাথে থাকবে। তবে এন্টিভাইরাস এর ফ্রী ভার্শন ইউজ না করে অবশ্যই পেইড ভার্শন ইউজ করবেন।

এতে আশানুরূপ পারফরম্যান্স পাবেন।

  • অপরচিত ওয়েবসাইট থেকে সফটওয়্যার বা গেম ডাউনলোড না দেয়া-

নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের মাঝে এটা বেশী দেখা যায়। তারা সফটওয়্যার বা গেম ডাউনলোড করার জন্য 3rd পার্টি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে। যেগুলোর বেশীরভাগভি নিরাপদ নয়।

আমরা অনেক সময় ক্র‍্যাক গেমের লোভে পরে এসব ওয়েবসাইট এ যাই। তবে মনে রাখতে হবে সে ওয়েবসাইট টি যেন অবশ্যই বিশ্বসযোগ্য ও নিরাপদ হয়।

  • স্প্যাম ইমেইল থেকে দূরে থাকুন-

যে অপরিচিত ইমেইল এ আপনাকে কোন লিংকে প্রবেশ করার জন্য বা কোন কিছু ডাউনলোড করার জন্য বলে তা থেকে ১০০ গজ দূরে থাকুন।

দরকার হলে এন্টিভাইরাস দিয়ে মেইলটি চেক করে নিন।

  • এক্সটার্নাল ডিভাইস ব্যবহার এ সতর্কতা-

আপনার পিসিতে কোন পেন ড্রাইভ, মেমোরি কার্ড বা হার্ডডিস্ক যুক্ত করার পূর্বে তা ভাইরাস এফেক্টেড কি-না পরীক্ষা করে নিন।

কারণ ওগুলোর ভাইরাস আপনার কম্পিউটারে ছড়িয়ে পরতে পারে।

  • দরকারী ফাইলের ব্যাকাপ রাখুন-

আপনার পিসিতে যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কোন ফাইল থাকে তাহলে সতর্কতার জন্য তার ব্যাকাপ নিয়ে রাখতে পারেন।

দিন দিন অনেক ভয়ংকর ও শক্তিশালী ভাইরাস তৈরী করা হচ্ছে, অসতর্কতা আমাদের অনেক ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

By Techmoshai Amin

টেকনোলজি সম্পর্কে পড়তে ভালোবাসি, লিখতে ভালোবাসি।

One thought on “কম্পিউটার ভাইরাস কি? কম্পিউটার ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায়-”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *