ল্যাপটপ/ফোনের ব্যাটারি ব্যাকাপ বাড়াবেন কিভাবে?

আধুনিক পৃথিবীর এ যুগে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ডিভাইস গুলো আমরা সবসময় ব্যবহার করছি।

ইন্টারনেট বা ভারী ভারী গেমস গুলো যখন আমরা প্রত্যেকটা সময় ইউজ করি, তখন ফোন বা ল্যাপটপের চার্জের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে কথা বলা খুবই প্রয়োজনীয় একটা বিষয়।

ব্যাটারি ব্যাকাপModern technology

Also read,

তাই আজ আমাদের আর্টিকেলের মূল টপিক হলো,

কিভাবে ব্যাটারি ব্যাকাপ দীর্ঘস্থায়ী করা যায়?

ইউজ ক্যাটাগরি অনুযায়ী ব্যাটারি পছন্দ করুন-

সবার প্রথমে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, আমরা ঠিক কি কাজের জন্য ল্যাপটপ বা ফোন ব্যবহার করছি। আর সে অনুযায়ী Battery পছন্দ করতে হবে।

দেখুন, আপনি যদি জেনারেল ইউজ মানে ফোন কল, ভিডিও দেখা বা টুকটাক নেট ব্রাউজিং এর জন্য ফোন /ল্যাপটপ কিনে থাকেন। তাহলে আপনার ফোনের চার্জিং ক্যাপাসিটি ২৫০০-৩০০০mah বা তার একটু উপরে হলেই হবে।

আর ল্যাপটপেও মুটামুটি মানের একটি ব্যাটারি হলেই হবে।

অন্যদিকে, আপনি যদি খুব বেশি পরিমাণে গেম খেলেন। সারাদিন ই খেলতে থাকেন। বা অনেকটা সময় নেট ব্রাউজিং, বা ল্যাপটপে ভিডিও ইডিটিং ইত্যাদি ভারী কাজ গুলো করেন।

সে ক্ষেত্রে আপনার ফোনে ৫০০০mah বা তার উপরের Battery লাগবে। যাতে আপনি সারাদিন গেম খেললেও ৮-৯ পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকাপ পাবেন।

আর ল্যাপটপের ক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন অবশ্যই ৪সেল/৬সেল বা তার চেয়েও উপরে Battery নেবার জন্য। কারণ ভিডিও ইডিটিং বা গেমিং দুটোয় অনেক বেশি পরিমাণে ব্যাটারি ব্যাকাপ কমিয়ে দেয়।

যদি আপনি ফোন/ল্যাপটপ কিনেন ভারী ভারী কাজ করার জন্য তাহলে, অবশ্যই ভালো ও বেশি mph এর Battery নিবেন। নয়তো যতোই ব্যাটারি ব্যাকাপ বাড়াতে চান, সম্ভব হবে না।

কোন ধরনের ব্যাটারি সবথেকে ভালো-

বর্তমান সময়ে Li-polymer এর Battery গুলোর কোয়ালিটি সবসময় অনেক বেশি ভালো হয়।

gadget 2142921 6402 01
Charging

আগে আমরা দেখতে পেতাম ফোন গুলোতে বা বেশিরভাগ ল্যাপটপ গুলোতে Li-ion ব্যাটারি ব্যবহার করা হতো।

কিন্তু বর্তমানে আধুনিক সব ডিভাইস গুলোতে li-polymer এর Battery গুলো ইউজ করা হয়।যা ওজনে খুব হালকা আর অনেক বেশি ব্যাটারি ব্যাকাপ ধরে রাখে।

তাই আপনি ফোন কিনেন বা ল্যাপটপ অবশ্যই কেনার আগে যাচাই করে নিবেন, ব্যাটারি টি Li-polymer এর কি না? Li-polymer এর ব্যাটারি li-ion এর চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে আপনাকে ব্যাটারি ব্যাকাপ দিবে।

তাই টাকা একটু বেশি লাগলেও চেষ্টা করবেন Li-polymer নিতে। Li-polymer ওজনে খুবই হালকা ও এর ব্যাটারি ব্যাকাপ অনেক ভালো।

২০-৮০ রুল মেনে চলুন-

আমরা সাধারণত দেখি, যখন একটা ল্যাপটপ বা ফোন কিনে নিয়ে আসি। প্রথম অবস্থায় তার অনেক ভালো চার্জ ঠিকে। তারপর যতোদিন যায় ব্যাটারি ব্যাকাপ আস্তে আস্তে কমতে থাকে।

এটা কেন হয়?

এক্সপার্ট দের মতে, বিশ্বে যত ধরনের Battery ইলেকট্রনিক ডিভাইস গুলোতে ইউজ করা হয়। তাদের একটি নির্ধারিত চার্জিং সাইকেল থাকে।

বিষয়টি সহজ করে বলতে গেলে, Battery তৈরীর সময় এর কোয়ালিটি অনুযায়ী ঠিক করে দেয়া হয় যে, এটা ঠিক কতবার ফুল চার্জ নিতে পারবে এবং সম্পূর্ণ চার্জ কতোবার শেষ করতে পারবে।

ব্যাটারির এ চার্জিং সাইকেল টি যতো বেশি শেষ হতে থাকবে, ততো তাড়াতাড়ি আপনার ডিভাইসের ব্যাটারি ব্যাকাপ কমতে থাকবে। ও একসময় নষ্ট হয়ে যাবে।

“চার্জিং সাইকেল যতো কম থাকবে ব্যাটারি ব্যাকাপ ততোবেশি থাকবে। আর চার্জিং সাইকেল যতো বাড়তে থাকবে ততো তাড়াতাড়ি ব্যাটারি ব্যাকাপ কমে যাবে ও নষ্ট হয়ে যাবে।”

আশা করি ‘চার্জিং সাইকেল ‘ বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

আমাদের করণীয় – চার্জিং সাইকেল যেন কম শেষ হয়, সে ব্যাপারে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। তার জন্য আমাদের উচিত হবে, ফোন বা পিসি সম্পূর্ণ ফুল চার্জ না করা আর সম্পূর্ণ ভাবে ডিসচার্জ ( চার্জ শেষ) না করা।

তবে, মাসে একবার ফোন/ল্যাপটপ ফুলচার্জ ও ডিসচার্জ করা ভালো।

আমরা যদি আমাদের ডিভাইসের ৮০% চার্জ হতেই চার্জার খুলে ফেলি আর ২০% চার্জ হতেই ফোন/ল্যাপটপ চার্জে লাগিয়ে দেই তাহলে ব্যাটারি সাইকেল অনকটুকুই কমিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

আর এ ২০-৮০ রুলস মেনে চলার ফলে আমরা দীর্ঘদিন পর্যন্ত বেশি ব্যাটারি ব্যাকাপ পাবো। আর আমাদের ডিভাইস (ফোন বা পিসি) ভালো থাকবে অনেক দিন পর্যন্ত।

অপ্রয়োজনীয় এপ্স রানিং বন্ধ করুন-

আমরা আমাদের ফোনে ও পিসিতে নানা কাজে নানারকম প্রয়োজনীয় এপ্স বা সফটওয়্যার সবসময় ব্যবহার করি।

আমরা যখন আমাদের কাজ শেষে এপ্স থেকে বের হয়ে আসি, তখন ও কিন্তু অনেক এপ্স আমাদের ডিভাইসের ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে।

ব্যাটারি

ফলে আমরা কাজ না করলেও বা রাতে ঘুমের সময় ফোন রেখে দিলেও দেখা যায় ফোনের অনেকটুকু চার্জ ফুরিয়ে গেছে।

Also read,

তার জন্যই আমাদের দরকার কাজ শেষে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা এপ্স গুলো বন্ধ করে দেয়া।

স্মার্টফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা এপ্স গুলো বন্ধ করতে নানা রকম এপ্স আপনারা প্লে স্টোরে পেয়ে যাবেন। তবে সব থেকে কার্যকরি এপ্স হচ্ছে Android Assistant.

পিসি ব্যবহারকারীদের জন্য-

Setting >privacy>background apps

এখান থেকে চাইলে আপনি ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা সমস্ত এপ্স বা ইচ্ছেমতো কিছু কিছু এপ্স বন্ধ করে দিতে পারবেন।

ফোন বা ল্যাপটপে এভাবে এপ্স গুলো ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বন্ধ করে দিলে, অপ্রয়োজনীয় ভাবে চার্জ খরচ হবে না। আর ব্যাটারি ব্যাকাপ ও দিবে লম্বা সময় ধরে।

অব্যবহৃত টুলস বন্ধ করে দিন-

অনেক সময় ই দেখা যায় আমরা আমাদের ফোনে ব্লুটুথ, ওয়াইফাই, হটস্পট, লোকেশন ইত্যাদি টুলস গুলো চালু করে রাখি।
বা কাজ শেষে বন্ধ করতে ভুলে যাই।

এ টুলস গুলো ও কিন্তু চার্জ আমাদের অজান্তেই খরচ করতে থাকে।

কারণ ব্লুটুথ বা ওয়াই-ফাই এর মতো টুলস গুলো চালু থাকলে এগুলো সবসময় ফ্রিকোয়েন্সি খুজতে থাকে। যার জন্য ব্যাকগ্রাউন্ডে আমাদের আস্তে আস্তে চার্জ শেষ হতে থাকে।

bluetooth 1690677 6402 01
Bluetooth

তাই কাজ শেষে আমরা অবশ্যই এপ্স এর সাথে সাথে বিভিন্ন টুলস ( ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই, হটস্পট) বন্ধ করে দিবো।

এটা করার ফলে আমাদের ব্যাটারি ব্যাকাপ অনেকটুকুই বেড়ে যাবে।

আরোও কিছু বিষয় :

এগুলো ছাড়াও আরোও কিছু বিষয় আছে যেগুলো ফলো করলে ব্যাটারি ব্যাকাপ বাড়ানো সম্ভব।

ভাইব্রেশন ও ব্রাইটনেসঃ ভাইব্রেশন ( কাঁপন) এর জন্য আমাদের ফোনে একটি মোটর দেয়া থাকে। যার সাহায্যে মেসেজ বা কল আসার সময় ফোন কাঁপানো হয়।

জেনে রাখুন, এটা খুব ব্যাটারি খরচ করে। তাছাড়া ব্রাইটনেস বেশি দেয়া থাকলে তাতেও চার্জ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খরচ হয়।

তাই ব্যাটারি ব্যাকাপ এর সমস্যা থাকলে ভাইব্রেশন অফ করে রাখবেন ও ব্রাইটনেস যতটুকু সম্ভব কমিয়ে রাখবেন।

লাইভ ওয়ালপেপারঃ আপনার ফোনের বা ল্যাপটপের যদি ব্যাটারি ব্যাকাপ এর সমস্যা থাকে। আর আপনি যদি চান অনেক্ষন পর্যন্ত চার্জ থাকুক ও ব্যাটারি ব্যাকাপ এর পরিমাণ বেড়ে যাক।

তাহলে আপনার জন্য উচিত হবে, কোন লাইভ ওয়ালপেপার চালু না রাখা। এতে প্রচুর পরিমাণে চার্জ ক্ষয় হয়।

যা ব্যাটারি ব্যাকাপ এ খারাপ প্রভাব ফেলে থাকে।

Note: লাইভ ওয়ালপেপার (live wallpaper) হলো এমন কিছু এনিমেশান পিকচার, যেগুলো ফোনের বা পিসির হোমস্ক্রীনে চালু রাখলে ভিডিও এর মতো চলতে থাকে। সাধারণ পিকচারের মতো স্থির হয়ে থাকে না।

আজ আমরা এ পুরো আর্টিকেলে শিখতে পারলাম-

  • কিভাবে ব্যাটারি ব্যাকাপ অনেক সময় পর্যন্ত বাড়ানো যায়।
  • Li-polymer সবসময় li-ion থেকে বেশি ব্যাটারি ব্যাকাপ দেয়।
  • চার্জিং সাইকেল সম্পর্কে বিস্তারিত।
  • ২০-৮০ রুলস এর সুবিধা।
  • ব্যাকগ্রাউন্ডে এপ্স কিভাবে বন্ধ করা যায় ও আরোও অনে কিছু।

শেষ কথা-

ব্যাটারি ব্যাকাপের স্থায়িত্ব নিয়ে সমস্যা আমাদের সব সময়ের। ফলে দরকারী কাজগুলো ঠিকঠাক ভাবে করা হয়ে উঠে না।

তা ছাড়া অনান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ফোন বা পিসি গুলো বিক্রি হয় খুব বেশি দামে।

যার জন্যে অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না, ভালো মানের ফোন বা ল্যাপটপ ইউজ করা।

উপরের ইন্সট্রাকশন গুলো ফলো করলে আগের থেকে অবশ্যই ব্যাটারি ব্যাকাপ বাড়বে। ইলেকট্রনিক ডিভাইস গুলো থাকবে সুরক্ষিত।

ফোন হোক বা পিসি…

ব্যাটারি ব্যাকাপ হোক দীর্ঘস্থায়ী

This Post Has 2 Comments

  1. Sazid

    অনেক হেল্পফুল ছিল ব্রো..

    1. Techmoshai Amin

      অনেক ধন্যবাদ। এরকম প্রয়োজনীয় আর্টিকেল গুলো পড়তে সাথেই থাকুন।

Leave a Reply