ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরী করার পর আমরা সবচাইতে বেশী যে সমস্যাটাতে পরি, তাহলো আমাদের ব্লগের জন্য আমরা ভিজিটর পাই না। ফলে আমাদের ইনকাম ও শূন্য অবস্থায় থাকে।

ওয়েবসাইট ভিজিটর

অথচ অন্যান্য ব্লগে প্রতিদিন হাজার হাজার ভিজিটর ভীড় করেন। আর তাদের অনলাইন ইনকামের পরিমাণ ও দিনদিন বাড়তেই থাকে।
সেগুলো হয়ে যায় জনপ্রিয় ওয়েবসাইট, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটকে জনপ্রিয় কিভাবে করবেন?

আপনার ওয়েবসাইটে কেন ভিজিটর আসে না? বা তাদের ওয়েবসাইট এ এতো পরিমাণ ট্রাফিক থাকার পেছনে সিক্রেট কি? আজ আমরা আমাদের এ লেখায় তুলে ধরবো।

তো কথা আর না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

ব্লগে ট্রাফিক না আসার কারণ-

1. আপনার ওয়েবসাইট একেবারে নতুন।

হ্যাঁ, আপনার ওয়েবসাইট টি যদি একেবারে নতুন হয়ে থাকে- তাহলে ভিজিটর না আসার এটাই সবচেয়ে বড় কারণ।

কারণ ওয়েবসাইট তৈরী করে সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে সাবমিট (জমা) দেয়ার করার পর র‍্যাঙ্কিং পেতে ৫-৬ মাস সময় লাগে।

আপনি যতভালো করেই আর্টিকেল লিখুন না কেন, আপনার লেখা গুগলের ফার্স্ট পেজ বা প্রথম পাতায় নিয়ে আসার জন্য এতটুকু সময় আপনাকে দিতেই হবে।

তারপরই আপনি আপনার ব্লগের জন্য একটা ভালো পরিমাণের ভিজিটর পেতে পারেন। কারণ নিয়ম মেনে আর্টিকেল লেখার পর ৫-৬ মাস পর আপনার লেখাগুলো গুগলে র‍্যাঙ্ক পেতে থাকবে।

বেশিরভাগ লোকেরা এই জায়গায় এসেই সবচেয়ে বড় ভুল টা করেন।

তারা হয়তো, অনলাইন ইনকাম এর কথা ভেবে একটি ব্লগ শুরু করেন। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতে ই ভিজিটর না পেয়ে হতাশ হয়ে পরেন। আর ব্লগিং করা ছেড়ে দেন।

তাই ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করতে চাইলে, আপনাকে একটু ধৈর্য্য ধরে কাজ করে যেতে হবে। তাহলেই ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফলতা সম্ভব হবে।

2. সঠিকভাবে SEO করুন।

SEO হচ্ছে Search Engine Optimization.
আমাদের লেখা গুলো যেন গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে সবার আগে দেখায়, সেজন্য ব্লগ ও ব্লগের লেখা গুলোকে ঠিকঠাক ভাবে তৈরী করাই হলো সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বা SEO.

OFF Page SEO( অফ পেজ এস ই ও)

অফ পেজ এস ই ও হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইট এর বাহিরের দিক গুলো ঠিক করা। এর মধ্যে আছে-

  • ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড ২-৪ সেকেন্ড রাখা।
  • একটি হালকা ও ফাস্ট থিম ব্যবহার করা।
  • দ্রুত গতির হোস্টিং ইউজ করা।
  • ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে অবশ্যই জমা করা।
  • ওয়েবসাইট এর নামে সোশ্যাল মিডিয়া তে প্রোফাইল বানিয়ে নেয়া।
  • ব্যাকলিঙ্ক তৈরী করা।

on page SEO ( অন পেজ SEO) গুলো হচ্ছে,

  • একটু বড় করে কমপক্ষে ১০০০+ ওয়ার্ডে বিস্তারিত ও গভীরভাবে আর্টিকেল লেখা।
  • কিওয়ার্ড ডেনসিটি ঠিক রাখা।
  • লেখার title, description, heading, subheading, প্রথম ও শেষ প্যারাতে ফোকাস কিওয়ার্ড ইউজ করা।
  • Internal ও External লিংক ব্যবহার করা।
  • Image ALT ট্যাগ ব্যবহার করা।
  • ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয় গুলো অন পেজ এস ই ও এর জন্য অনেক জরুরী।

SEO সম্পর্কে দক্ষ হতে ও বিস্তারিত জানতে এ লেখাটি পড়ুন,

3. ওয়েবসাইটের DA PA বাড়িয়ে নিন।

গুগল র‍্যাঙ্কিং এর জন্য ওয়েবসাইট এর DA PA অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। এগুলো যত বেশি হবে ততো তাড়াতাড়ি লেখা সার্চ ইঞ্জিন এ ইনডেক্স হবে ও র‍্যাঙ্ক হবে।

DA- Domain Authority
PA- Page Authority

DA PA বাড়ানোর উপায় –
ডিএ পিএ মূলত নির্ভর করে কিছু বিষয়ের উপর। সেগুলো হচ্ছে-

  • আর্টিকেলের কোয়ালিটি।

আর্টিকেল টি সহজ সুন্দর ও SEO friendly করে লেখা।

  • ওয়েবসাইট ট্রাফিক

দিনদিন ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। মনে রাখবেন, টাকা ইনকামের বিষয়টি সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট এর ট্রাফিকের উপর নির্ভর করে।
এর জন্য সঠিক SEO ও সাথে প্রচার – প্রচারণা জরুরী।

  • ব্যাকলিঙ্ক (Backlink)

ব্যাকলিঙ্ক হচ্ছে অন্য ওয়েবসাইট এ আপনার ওয়েবসাইটের লিংক দেয়া, যাতে ভিজিটর ঐ ব্লগ থেকে আপনার ব্লগে আসে।

এতে যেমন বেশি বেশি ট্রাফিক পাওয়া যায়, গুগলের ট্রাস্ট বাড়ে, সাথে DA PA ও বাড়ে।
তাই নিয়মিত কোয়ালিটি সম্পন্ন ব্যাকলিঙ্ক তৈরী করবেন।


ওয়েবসাইটের ট্রাফিক এর উপর।

ওয়েবসাইটের ভিজিটর যতবেশি হবে, আপনার DA PA তত বেশি হবে। অনলাইনে টাকা ইনকাম করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে।
তাই সবসময় Google analytics এ ওয়েবসাইট ট্রাফিকের উপর খেয়াল রাখবেন।

4. কিওয়ার্ড রিসার্চ করুন।

কোন ওয়েবসাইট কে গুগলের ১ম পাতায় নিয়ে আসার জন্য, কিওয়ার্ড রিসার্চ (Keyword research) অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

Keyword research কি?

সহজ করে বলতে গেলে, আপনি যে বিষয়টি নিয়ে লিখবেন- সে সম্পর্কে গুগলে কেমন সার্চ হচ্ছে এবং কোন কোন ওয়েবসাইট এ বিষয়টি নিয়ে লিখে র‍্যাঙ্ক করেছে তা জেনে নেয়া।

এ ক্ষেত্রে আপনার নতুন ব্লগের জন্য যে keyword গুলোতে Search volume বেশি মানে লোকেরা বেশি সার্চ করে ও SD (SEO Difficulty) ১০এর কম এমন কিওয়ার্ড বেছে নিন।

এ ক্ষেত্রে আপনি যদি ব্লগিং এ একদম নতুন হয়ে থাকেন, তাহলে ubbersuggest ব্যবহার করতে পারেন। এতে সম্পূর্ণ ফ্রীতে প্রতিদিন ৩বার কিওয়ার্ড চেক করা যায়।

আর যদি কিছু টাকা ব্যয় করার সামর্থ্য থাকে, তাহলে কিওয়ার্ড রিসার্চের জন্য বিশ্বব্যাপি জনপ্রিয় দুটি ওয়েবসাইট হলো-

  1. Ahref
  2. Semrush

ফ্রীতে হয়তো কিছু সুবিধা আপনি পাবেন। তবে এদের বেশিরভাগ ফিচার গুলো ব্যবহার করার জন্য টাকা প্রদান করতে হয়।

উপরে লিংকে চেপে এখনি একাউন্ট করে রাখুন।

5. ট্রাফিকের জন্য শুধু গুগলের উপর নির্ভরশীল থাকবেন না।

নতুন ওয়েবসাইট কে সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে, বিশেষ করে গুগলে র‍্যাঙ্ক করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়।

এ ক্ষেত্রে আপনি শুধু গুগলের থেকে ভিজিটর আশা না করে, আরোও কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করুন।

নিচের কাজ গুলো করলে ব্লগে ভিজিটর আসবেই আসবে।

  • Social media Sharing –

আপনার ওয়েবসাইটের জন্য যদি ফেসবুকে পেজ/গ্রুপ খুলে না থাকেন, তাহলে এখনি করুন। ইনস্ট্রাগ্রামেও ব্লগের নামে একাউন্ট করুন।

আর তাতে ফ্রেন্ডস, ফলোয়ার বাড়িয়ে আপনার ব্লগের পোস্ট গুলো শেয়ার করুন।

এতে যেমন আপনার ব্লগের জন্য নিত্যনতুন ভিজিটর পাবেন, এতে আপনার ওয়েবসাইট এর উপর গুগলের ট্রাস্ট ও বাড়বে।

  • Q&A সাইট গুলোতে উত্তর দিন।

Q&A হচ্ছে Question and Answer.
ইন্টারনেটে এমন কিছু ওয়েবসাইট আছে যেগুলোতে লোকেরা নানা বিষয়ে প্রশ্ন করে থাকেন। এ ওয়েবসাইট গুলোর DA PA বেশি থাকায় র‍্যাঙ্ক করে ও হাজার থেকে লক্ষ লক্ষ ভিজিটর নিয়মিত আসে।

আপনার কাজ হচ্ছে, এ ওয়েবসাইট গুলোতে আপনি যে বিষয়ে আর্টিকেল লিখেন সে বিষয়ে সার্চ করা।

তারপর যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশিবার দেখা হয়েছে, তাতে উত্তর দিয়ে আপনার ওয়েবসাইট এর লিংক দিয়ে দিন।

এ পদ্ধতিতে আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য যেমন কোয়ালিটি ব্যাকলিঙ্ক তৈরী হবে, সাথে সাথে হাজার হাজার ভিজিটর ও পাবেন।

আর আপনার ওয়েবসাইট এর লেখাগুলো ভালো হলে ভিজিটর রা বারবার আপনার লেখা পড়তে আসবেন।
ট্রাফিকের জন্য আর আপনাকে ভাবতে হবে না।

Q&A সাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিজিটর পাওয়া যায়, এমন দুটি ওয়েবসাইট হচ্ছে,

  1. Quora (any language)
  2. Bissoy (Bangla)

কিভাবে প্রশ্নের উত্তর দিবেন?

প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্য আপনাকে এ ওয়েবসাইট গুলোতে একাউন্ট করতে হবে। একাউন্ট করার পর পরই আপনি যে কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন।

উত্তর দেবার সময় আপনার আর্টিকেলের লিংক দিয়ে দিতে পারেন।

এটা অনেক বেশি কার্যকরী একটি পদ্ধতি।
তবে ভিজিটর ধরে রাখতে আপনার লেখার কোয়ালিটির উপর গুরুত্ব দিবেন। প্রত্যেকটা লেখা পড়ে পাঠকের যেন অনেক হেল্প হয়, অনেক কিছু শিখতে পারে।

তাহলে আপনার ব্লগে সে বারবার ফিরে আসবে।

প্রত্যেকটা পোস্ট পাব্লিশ হওয়ার সাথে সাথে যেন পাঠক নোটিফিকেশন (বিজ্ঞপ্তি) পায় সে জন্য Email subscriptionWeb push notification চালু করে রাখবেন।

আমাদের শেষ কথা-

আজ আমরা আমাদের এ আর্টিকেলে শিখতে পারলাম-

  • আমাদের ওয়েবসাইটে ট্রাফিক (ভিজিটর) না আসার কারণ।
  • একটি ওয়েবসাইট কে শুরু থেকে জনপ্রিয় করার উপায়।
  • ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়ানোর উপায়।
  • SEO, keywords, backlink ইত্যাদি বিষয় গুলো সম্পর্কে জানতে পারলাম।
  • Q&A তথা Question and Answer ওয়েবসাইট থেকে আনলিমিটেড ভিজিটর নিয়ে আসার সেরা উপায়।
  • DA PA বাড়ানোর উপায়।

মোটকথা, একটি ওয়েবসাইট কে কিভাবে গুগল সার্চের প্রথম পাতায় নিয়ে আসা যায়। এবং অনেক বেশি ট্রাফিক নিয়ে এসে অনলাইন ইনকাম বাড়িয়ে নেয়া যায়।

Blogging বা Online income রিলেটেড যে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানিয়ে দিতে পারেন।
আমাদের পোস্ট গুলোর নোটিফিকেশনে সবার আগে পেতে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

ধন্যবাদ।

By Techmoshai Amin

টেকনোলজি সম্পর্কে পড়তে ভালোবাসি, লিখতে ভালোবাসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *